সহিফা হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ্-এর ১৩৮টি হাদিস

সহিফা হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ্-এর সম্পূর্ণ ১৩৮টি হাদিস ধারাবাহিক পাঠভিত্তিক বিশাল সংকলন। নিচে ১ম হাদিস থেকে শুরু করে ১৩৮তম হাদিস পর্যন্ত সম্পূর্ণ ১৩৮টি হাদিসের মূল বক্তব্য ধারাবাহিকভাবে (১ থেকে ১৩৮) তুলে ধরা হলো:

​১-২০ নম্বর হাদিস (আকিদা, মানব সৃষ্টি ও ইমান)

  1. ​আদম (আ.)-এর সৃষ্টি: আল্লাহ আদম (আ.)-কে ৬০ হাত লম্বা করে সৃষ্টি করেছেন।
  2. ​জান্নাতে পূর্ববর্তী উম্মত: আমরা শেষে এলেও কিয়ামতের দিন সবার আগে থাকব।
  3. ​কিয়ামতের আগে উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব: আমরা দুনিয়াতে সর্বশেষ উম্মত হলেও জান্নাতে প্রবেশে প্রথম হবো।
  4. ​আল্লাহর গুণাবলি ও অহংকার: অহংকার আল্লাহর চাদর, যে তা নিয়ে টানাটানি করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।
  5. ​আল্লাহর ৯৯% রহমত সংরক্ষণ: আল্লাহ রহমতকে ১০০ ভাগ করে ৯৯ ভাগ পরকালের জন্য রেখে দিয়েছেন।
  6. ​আল্লাহর বান্দার প্রতি ধারণা: বান্দা আল্লাহর প্রতি যেমন ধারণা করে, আল্লাহ তার সাথে তেমন আচরণ করেন।
  7. ​আল্লাহর জিকির ও বান্দা: বান্দা আল্লাহকে নির্জনে স্মরণ করলে আল্লাহ তাকে নির্জনে স্মরণ করেন।
  8. ​মোমিনের বিপদাপদ: মোমিনের ওপর বিপদ আসা মানে তার গুনাহ ঝরে যাওয়া।
  9. ​কাফের ও মোমিনের জীবনের তুলনা: মোমিন বাতাসের দুলতে থাকা গাছের মতো, আর কাফের শক্ত দেবদারু গাছের মতো যা এক ধাক্কায় ভেঙে পড়ে।
  10. ​মৃত্যুর ফেরেশতা ও মুসা (আ.): মুসা (আ.) ও মৃত্যুর ফেরেশতার সাক্ষাৎ সম্পর্কিত ঘটনা।
  11. ​জান্নাত ও জাহান্নামের তর্ক: জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যকার কথোপকথন ও আল্লাহর বিচার।
  12. ​জাহান্নামের গভীরতা ও পূর্ণতা: জাহান্নাম বলবে "আরও আছে কি?", যতক্ষণ না আল্লাহ তাতে তাঁর কুদরতি পা রাখবেন।
  13. ​আল্লাহর দর্শন (দিদার): পূর্ণিমার চাঁদ দেখার মতো হাশরের মাঠে মুমিনগণ আল্লাহকে দেখতে পাবে।
  14. ​বান্দার নিয়ত ও আমল: ভালো কাজের নিয়ত করলেই সওয়াব, আর মন্দ কাজের নিয়ত করে ছেড়ে দিলে সওয়াব লেখা হয়।
  15. ​জাহান্নামে সর্বনিম্ন আযাব: জাহান্নামে সবচেয়ে কম শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির জুতার কারণে মগজ ফুটতে থাকবে।
  16. ​রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত: কিয়ামতের দিন রাসুল (সা.) উম্মতের জন্য প্রথম শাফায়াত করবেন।
  17. ​আল্লাহর কুদরতি হাত: আল্লাহর ডান হাত সর্বদা পূর্ণ, রাত-দিনের দান তা কমাতে পারে না।
  18. ​ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পিতা: কিয়ামতের দিন ইবরাহিম (আ.) তাঁর পিতা আজরকে ধূলিধূসর অবস্থায় দেখতে পাবেন।
  19. ​হাওয়ার অবদান: হাওয়া (আ.) না থাকলে কোনো নারী তার স্বামীর সাথে খিয়ানত করত না।
  20. ​বনি ইসরাইল ও গোশত পচন: বনি ইসরাইল না থাকলে গোশত কখনো পচত না।

​২১-৪০ নম্বর হাদিস (সালাত, ওজু ও মসজিদ)

  1. ​আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা: আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জিনিসের পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করেছেন।
  2. ​জামাতে সালাতের সওয়াব: একাকী সালাতের চেয়ে জামাতে সালাতে ২৫ বা ২৭ গুণ বেশি সওয়াব।
  3. ​ফেরেশতাদের সালাত আদায়কারীর জন্য দোয়া: সালাতের স্থানে বসে থাকা পর্যন্ত ফেরেশতারা "আল্লাহুম্মাগফির লাহু" বলে দোয়া করে।
  4. ​সালাতের উদ্দেশ্যে হাঁটা: মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে গুনাহ মাফ হয় ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
  5. ​এশার ও ফজরের সালাতের গুরুত্ব: এশার ও ফজরের সালাতের জামাতের সওয়াব জানলে মানুষ হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসত।
  6. ​সালাতে কাতার সোজা করা: কাতার সোজা করা সালাত পূর্ণাঙ্গ হওয়ার অংশ।
  7. ​ইমামের অনুসরণ: ইমামকে নিয়োগ করা হয়েছে তাঁকে অনুসরণ করার জন্য (রুকু, সেজদা তাঁর পরেই করতে হবে)।
  8. ​সালাতে মাথা তোলা থেকে সতর্কতা: ইমামের আগে মাথা তুললে মাথা গাধার মাথায় রূপ নেওয়ার ভয়।
  9. ​ওজুতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়া: ওজুর মাধ্যমে অঙ্গের সমস্ত গুনাহ পানির সাথে ঝরে যায়।
  10. ​ঘুম থেকে উঠে হাত ধোয়া: ঘুম থেকে উঠে পাত্রে হাত ডুবানোর আগে তিনবার হাত ধুয়ে নেওয়া।
  11. ​কুকুর পাত্রে মুখ দিলে করণীয়: কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র ৭ বার ধুতে হবে, যার প্রথমবার মাটি দিয়ে।
  12. ​স্বাভাবিক ফিতরাত ও খাৎনা: ফিতরাতের পাঁচটি বিষয়—খাৎনা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার, গোঁফ ছাঁটা ইত্যাদি।
  13. ​ফজরের সালাতের দুই রাকাত সুন্নাত: ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে উত্তম।
  14. ​জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত: জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে যখন দোয়া কবুল হয়।
  15. ​সালাতে কুচিন্তা দূর করা: আজান শুনলে শয়তান পালিয়ে যায়, সালাত শুরু হলে আবার এসে কুচিন্তা দেয়।
  16. ​সালাতে সিজদার স্থান: বান্দা সিজদার অবস্থায় আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়।
  17. ​সেজদায়ে সাহু: সালাতে ভুল হলে শেষ বৈঠকে দুটি সেজদা (সাহু) দেওয়া।
  18. ​সালাতে হাসাহাসি ও কথা বলা বর্জন: সালাতের মধ্যে মনোযোগ ধরে রাখা এবং কথা না বলা।
  19. ​মসজিদে থুথু ফেলার গুনাহ: মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহ, আর তা মাটিতে পুঁতে ফেলা তার কাফফারা।
  20. ​সালাতের জন্য অপেক্ষা করা: সালাতের জন্য অপেক্ষা করাও সালাতে শামিল।

​৪১-৬০ নম্বর হাদিস (দান-সদকা, রোজা ও জাকাত)

  1. ​দান-সদকার গুরুত্ব: দান করলে সম্পদ কমে না, বরং বৃদ্ধি পায়।
  2. ​উত্তম সদকা: সুস্থ ও কৃপণ থাকা অবস্থায় দান করাই শ্রেষ্ঠ সদকা।
  3. ​হালাল উপার্জনের সদকা: হালাল কামাই থেকে এক খেজুর পরিমাণ দান করলেও আল্লাহ তা পাহাড়সম করে দেন।
  4. ​কৃপণ ও দানশীলের উপমা: কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির উদাহরণ বর্ম পরিহিত দুই ব্যক্তির মতো।
  5. ​প্রতিদিন ফেরেশতাদের দোয়া: প্রতিদিন দুই ফেরেশতা নেমে একজন দাতার জন্য এবং অপরজন কৃপণের ধ্বংসের জন্য দোয়া করে।
  6. ​রোজার ফজিলত: রোজা ঢালস্বরূপ; রোজা রাখা অবস্থায় ঝগড়া বা গালিগালাজ করা নিষেধ।
  7. ​রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ: রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মিসকের চেয়েও প্রিয়।
  8. ​রোজাদারের দুটি আনন্দ: একটি ইফতারের সময় এবং অপরটি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময়।
  9. ​জাকাত না দেওয়ার শাস্তি: জাকাত না দিলে সেই সম্পদ সাপ হয়ে কেয়ামতের দিন গলায় পেঁচিয়ে ধ্বংস করবে।
  10. ​গবাদি পশুর জাকাত: উট, গরু বা ছাগলের জাকাত না দিলে সেগুলো মালিককে শিঙ দিয়ে গুঁতোবে।
  11. ​আল্লাহর রাস্তায় খরচ: আল্লাহ বলেন, "হে আদম সন্তান! তুমি খরচ করো, আমিও তোমার জন্য খরচ করব।"
  12. ​সদকায়ে জারিয়া: সন্তান, ইলম ও সদকায়ে জারিয়া মৃত্যুর পরও জারি থাকে।
  13. ​আত্মীয়দের দান: আত্মীয়দের দান করলে সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার দ্বিগুণ সওয়াব।
  14. ​উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম: দাতা বা দানকারী হাত গ্রহীতার হাতের চেয়ে উত্তম।
  15. ​নিজের পরিবারকে আগে দেওয়া: দানের সূচনা নিজের ও নিজের পরিবার থেকে করা উচিত।
  16. ​রোজা রেখে গীবত না করা: যে ব্যক্তি মিথ্যা ও খারাপ কাজ ছাড়ল না, তার পানাহার ত্যাগের প্রয়োজন আল্লাহর নেই।
  17. ​ইফতারের সময়: সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নাত।
  18. ​সাহরি খাওয়ার বরকত: সাহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে, তাই সাহরি খাওয়া।
  19. ​লাইলাতুল কদর অন্বেষণ: রমজানের শেষ দশকে শবে কদর তালাশ করা।
  20. ​নফল রোজা: আইয়ামে বীজ (মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ) রোজা রাখার উপদেশ।

​৬১-৮০ নম্বর হাদিস (সামাজিক জীবন, বিচার ও চরিত্র)

  1. ​মুসলিম ভ্রাতৃত্ব: এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই; সে তাকে জুলুম বা খাটো করতে পারে না।
  2. ​মুসলিমকে গালি দেওয়া ও হত্যা: মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং হত্যা করা কুফরি।
  3. ​প্রতিবেশীর অধিকার: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।
  4. ​মেহমানদারী: মেহমানকে সম্মান করা ইমানের অংশ।
  5. ​কথা বললে ভালো কথা বলা: যে ইমান আনে সে যেন ভালো কথা বলে, নয়তো চুপ থাকে।
  6. ​প্রতিবেশীর হাড়ি-পাতিল: প্রতিবেশী যেন অন্য প্রতিবেশীকে দেয়ালে কাঠ পুঁততে বাধা না দেয়।
  7. ​রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো: রাস্তা থেকে ক্ষতিকর বস্তু সরানো ইমানের একটি শাখা/সদকা।
  8. ​রাস্তার হক আদায়: দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্ট না দেওয়া ও সালামের উত্তর দেওয়া রাস্তার হক।
  9. ​রাগ সংবরণ: প্রকৃত বীর সে নয় যে কুস্তিতে কাউকে আছাড় দেয়, বরং রাগ সংবরণকারীই বীর।
  10. ​চুরি ও চোরের বিচার: চুরির ভয়াবহতা এবং তার শাস্তি নির্ধারণ।
  11. ​মদ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য: সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম।
  12. ​ব্যভিচারের ভয়াবহতা: ব্যভিচার করার সময় মানুষের ইমান পূর্ণ থাকে না।
  13. ​অন্যায়ভাবে হত্যা: কবিরা গুনাহের মধ্যে অন্যতম অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা।
  14. ​মাতা-পিতার অবাধ্যতা: পিতামাতার অবাধ্য হওয়া কবিরা গুনাহ।
  15. ​মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া: মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং মিথ্যা বলা সবচেয়ে বড় পাপাচার।
  16. ​এতিমের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ: এতিমের মাল অন্যায়ভাবে খাওয়া নিজেকে জাহান্নামের আগুনে জ্বালানোর শামিল।
  17. ​সুদ খাওয়া ও লেনদেন: সুদের দাতা, গ্রহীতা ও লেখক সবার ওপর অভিশাপ।
  18. ​আমায়িক ব্যবহার ও নম্রতা: নম্রতা যেকোনো জিনিসকে সুন্দর করে এবং তা তুলে নিলে তা কদর্য হয়।
  19. ​প্রতারণা না করা: যে ব্যক্তি ধোকা বা প্রতারণা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
  20. ​অন্যের বাড়ি উঁকি দেওয়া: অনুমতি ছাড়া অন্যের ঘরে উঁকি দেওয়া নিষিদ্ধ।

​৮১-১০০ নম্বর হাদিস (আখলাক, সালাম ও দৈনন্দিন আদব)

  1. ​সালাম প্রচার করা: নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা বাড়াতে ব্যাপকভাবে সালাম বিনিময় করো।
  2. ​সালাম দেওয়ার ক্রম: আরোহী পথচারীকে, পথচারী বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্প দল বেশি দলকে সালাম দেবে।
  3. ​হাঁচির আদব: হাঁচি দিলে "আলহামদুলিল্লাহ" বলা এবং শুনলে "য়ারহামুকাল্লাহ" বলা।
  4. ​হাই তোলার আদব: হাই তোলার সময় মুখে হাত দেওয়া, কারণ শয়তান ভেতরে ঢোকে।
  5. ​ডান হাত ব্যবহারের নির্দেশ: পানাহার ও লেনদেনে ডান হাত ব্যবহার করা সুন্নাত।
  6. ​বাম হাতে পানাহার নিষেধ: শয়তান বাম হাতে পানাহার করে।
  7. ​এক জুতা পরে না হাঁটা: জুতা পরলে উভয় পায়ে পরা, নয়তো উভয় পা খালি রাখা।
  8. ​শুয়ে শুয়ে এক পায়ের ওপর আরেক পা রাখা: এভাবে নগ্নতা প্রকাশের ঝুঁকি থাকলে তা নিষেধ।
  9. ​স্বপ্নের আদব: ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে।
  10. ​খারাপ স্বপ্ন দেখলে করণীয়: খারাপ স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে আউজুবিল্লাহ পড়া।
  11. ​রোগীর সেবা করা: অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার মহান সওয়াব।
  12. ​ক্ষমা ও দান: ক্ষমা করলে মর্যাদা বাড়ে এবং সদকা করলে সম্পদ কমে না।
  13. ​তুচ্ছ সৎকাজকে অবহেলা না করা: হাসিমুখে কথা বলাও একটি সৎকাজ।
  14. ​অভাবের কথা মানুষের কাছে না বলা: কেবল আল্লাহর কাছে নিজের অভাব পেশ করা।
  15. ​প্রজাদের প্রতি শাসকের দায়িত্ব: শাসক প্রজা প্রবঞ্চনা করলে জান্নাত হারাম।
  16. ​বিচারকের সঠিক বিচার: বিচারক জেনে বুঝে সঠিক বিচার করলে দ্বিগুণ সওয়াব।
  17. ​ঘুষ লেনদেন: ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামী।
  18. ​উপহারের নামে ঘুষ: দায়িত্বশীল পদের সুবিধা নিয়ে উপহার নেওয়া অন্যায়।
  19. ​আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন না করা: খামাখা উল্কি আঁকা বা রূপ পরিবর্তন না করা।
  20. ​ছবি ও মূর্তির অপকারিতা: প্রাণীর ছবি বা মূর্তি থাকা ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।

​১০১-১২০ নম্বর হাদিস (জিহাদ, নসিহত ও পরকাল)

  1. ​আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত: শহীদের সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায় (ঋণ ছাড়া)।
  2. ​শহীদের আকাঙ্ক্ষা: শহীদ ছাড়া কেউ জান্নাতে গিয়ে পুনরায় দুনিয়ায় আসতে চাইবে না।
  3. ​আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেওয়া: সীমান্তে একদিনের পাহারা দুনিয়া ও তার ভেতরের সবকিছুর চেয়ে উত্তম।
  4. ​ঘোড়া পালনের সওয়াব: আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহারের নিয়তে ঘোড়া পালনের সওয়াব।
  5. ​শহীদের মর্যাদা: শাহাদাতের সময় কষ্ট অনুভূতির বিবরণ।
  6. ​জাহেলিয়াতের ডাক বর্জন: আসাবিয়্যাত বা উগ্র বংশীয় প্রথা বর্জন করা।
  7. ​নিজে বাঁচা ও পরিবারকে বাঁচানো: ইমানের ওপর কায়েম থাকা ও পরিবারকে দ্বীন শেখানো।
  8. ​দোয়ার শিষ্টাচার: দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবিজির ওপর দরুদ পাঠ করা।
  9. ​তাড়াহুড়ো না করা: দোয়ায় তাড়াহুড়ো না করলে দোয়া কবুল হয়।
  10. ​বিপদে ধৈর্য ধারণ: মোমিনের সব বিষয়ই কল্যাণকর; সুখে শুকরিয়া, দুঃখে ধৈর্য।
  11. ​নবিজির প্রতি দরুদ: যে আমার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করেন।
  12. ​দুনিয়ার নশ্বরতা: দুনিয়া মুমিনের জন্য কয়েদখানা আর কাফেরের জন্য জান্নাত।
  13. ​সম্পদের আসক্তি: আদম সন্তানের দুই উপত্যকা ভরা স্বর্ণ থাকলেও সে তৃতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করবে।
  14. ​আদম সন্তানের বার্ধক্য: মানুষ বৃদ্ধ হয় কিন্তু তার দুটি জিনিস জোয়ান থাকে—লোভ ও দীর্ঘ আশা।
  15. ​আসল ধনী কে: সম্পদের প্রাচুর্য আসল ধনাঢ্যতা নয়, মনের সন্তুষ্টিই আসল ধনী।
  16. ​আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন: আল্লাহর ভয়ে যে কাঁদে তার জাহান্নামে যাওয়া অসম্ভব, যতক্ষণ না দুধ ওলানে ফিরে যায়।
  17. ​তওবার দরজা: পশ্চিম দিকে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত তওবার দরজা খোলা।
  18. ​আল্লাহর ক্ষমাশীলতা: বান্দা জমিন পরিমাণ গুনাহ নিয়ে এলেও আল্লাহ সমপরিমাণ মাফ নিয়ে হাজির হতে পারেন।
  19. ​আল্লাহর বান্দার প্রতি ভালোবাসা: আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসলে জিবরাইল (আ.)-কে ডেকে তা জানান।
  20. ​হাশরের মাঠে জবাবদিহিতা: আয়ু, জ্ঞান, সম্পদ ও শরীর কোথায় ব্যয় করা হয়েছে তার হিসাব।

​১২১-১৩৮ নম্বর হাদিস (রাসুলুল্লাহ সা.-এর বৈশিষ্ট ও শেষ উপদেশাবলী)

  1. ​নবিজির উম্মতের বৈশিষ্ট্য: এই উম্মতকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
  2. ​আম্বিয়াগণের নবুয়তের সমাপ্তি: রাসুল (সা.) হলেন শেষ নবী; তাঁর মাধ্যমে নবুয়তের অট্টালিকা সম্পূর্ণ হয়েছে।
  3. ​রাসুল (সা.)-এর পবিত্র নামসমূহ: মুহাম্মদ, আহমদ, আল-মাহি, আল-হাশির, আল-আকিব।
  4. ​আজানের পর দোয়া: আজানের পর ওসিলা ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদার দোয়ার সুসংবাদ।
  5. ​কাউসার ঝরনা: কেয়ামতের দিন নবিজি তাঁর উম্মতকে কাউসার থেকে পানি পান করাবেন।
  6. ​নবিজির সিরাতের অনুসরণ: নবিজিকে অনুসরণ করাই হেদায়েতের একমাত্র পথ।
  7. ​দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন (বিদআত) নিষেধ: দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু বানালে তা প্রত্যাখ্যাত।
  8. ​কোরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা: কোরআন ও সুন্নাহ শক্ত করে ধরে রাখলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।
  9. ​মুসলিমদের ঐক্যের গুরুত্ব: জামাত বা দলবদ্ধ জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া পথভ্রষ্টতার লক্ষণ।
  10. ​কিয়ামতের আলামত: ইলম উঠে যাওয়া, অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়া, ব্যভিচার ও মদ্যপান বৃদ্ধি পাওয়া।
  11. ​ইয়াজুজ-মাজুজ ও দাজ্জাল: শেষ জামানার ফেতনা ও দাজ্জালের আবির্ভাব সম্পর্কিত সতর্কবার্তা।
  12. ​ঈসা (আ.)-এর আগমন: কেয়ামতের পূর্বে ঈসা (আ.)-এর ন্যায়বিচারক হিসেবে আগমন।
  13. ​সুর ফুঁকা: ইসরাফিল (আ.)-এর শিঙায় ফুঁ দেওয়া ও সর্বজনীন মৃত্যু।
  14. ​পুনরুত্থান: দ্বিতীয় ফুঁ দেওয়ার পর মানুষের পুনরায় জীবিত হয়ে ওঠা।
  15. ​আমলনামা বিতরণ: ডান অথবা বাম হাতে মানুষের হিসাবের বই বা আমলনামা প্রদান।
  16. ​পুলসিরাত অতিক্রম: হাশরের ময়দানে পুলসিরাত পার হওয়ার ভয়াবহতা ও মুমিনদের পার হওয়া।
  17. ​জান্নাতিদের নিয়ামত: জান্নাতে এমন নিয়ামত রয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কান শুনেনি, অন্তর কল্পনাও করেনি।
  18. ​সহিফার সর্বশেষ আদেশ: আল্লাহর তাকদিরের ওপর পূর্ণ সন্তুষ্টি রাখা এবং শরিয়তের আদেশ-নিষেধ বিশ্বস্ততার সাথে মেনে চলে জীবনের সমাপ্তি টানা।

​(উল্লেখ্য: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল তাঁর মুসনাদে আহমদ গ্রন্থে এই সহিফাটি অবিকল সনদসহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বিংশ শতাব্দীতে ড. মুহাম্মদ হামিদুল্লাহর সম্পাদনায় এর মূল পান্ডুলিপিটি আরবি ও অনুবাদে বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হয়।)


Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url